মঙ্গলবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জাগো জবস
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
  13. ধর্ম ও জীবন
  14. প্রবাস জীবন
  15. ফিচার

জীবনের আরেক বসন্ত পেরিয়ে বিশ্ব পরিব্রাজক নাজমুন নাহার

প্রতিবেদক
admin
ডিসেম্বর ১২, ২০২৩ ৮:২০ অপরাহ্ণ

বাঁধা বিঘ্নের পৃথিবীতে কোনো শিশু যখন স্বপ্ন দেখতে-দেখতে বড় হয় এবং সেই স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে তখন সে শিশু একজন মানুষ হয়ে তার চারপাশের পৃথিবীকে আলোকিত করতে থাকে। নাজমুন নাহার বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নারী পরিব্রাজক- বিশ্ব ভ্রমনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকা বহনে যিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা দেখে অনুপ্রান্ত হচ্ছে লাখ লাখ তরুণ। তাই নাজমুন বলেন, ‘মানুষ নক্ষত্র হয়ে জন্ম নেয় না একটা জন্মকে মানুষ নক্ষত্র করে তুলতে পারে’।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কবি লিখেছেন, ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে…’ আকাশজুড়ে যখন ভোরের উজ্জ্বল তারকা, মোহাম্মদ আমিন ও তাহেরা আমিনের ঘরে তখন আগমন ঘটল নতুন এক অতিথির। তখন কি কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতেন, এই মেয়েই একদিন হয়ে উঠবে বিশ্বপরিব্রাজক? নারীর জন্য বন্ধ থাকা দুয়ার খুলে ঘুরে দেখবেন জগৎটাকে?

আমিন-তাহেরা দম্পতির সন্তান নাজমুন নাহার সোহাগী। শৈশব থেকেই ঘুরে বেড়ানোর অদম্য নেশা চেপে বসে নাজমুনের। সংশয়-বিপত্তিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে নাজমুন ঘুরেছেন ১৬৭টি দেশ। বাংলাদেশের মেয়ে নাজমুনের পায়ের স্পর্শ পেয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাটি। নাজমুন ঘুরে ঘুরে মিশেছেন বিচিত্র স্বভাবের মানুষের সঙ্গে, পূর্ণ করেছেন অভিজ্ঞতার ঝুলি।

১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুন নাহার। দাদা আলহাজ ফকীহ আহমদ উল্লাহ ইসলামিক স্কলার ছিলেন। ১৯২৬-১৯৩১ সাল পর্যন্ত ফকীহ আহমদ উল্লাহ আরব দেশগুলোতে সফর করেন। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সর্বকনিষ্ঠ। সবার আদর ও ভালোবাসায় বেড়ে ওঠেন নাজমুন।

জন্মের পর থেকেই নাজমুনকে পুরো পৃথিবী ভ্রমণের একটি স্বপ্নই তাড়িত করত, ছোটবেলার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করেছেন তিনি। পাখির মতো, প্রজাপতির ডানার মতো ছোটবেলা থেকেই সীমানাহীন উড়তে চাইতেন নাজমুন। সব বাধাকে হার মানিয়ে এই প্রজন্মের ইতিহাস সৃষ্টিকারী মানুষটির জীবনের দৃঢ় সংকল্প তাকে ঘর ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পথে পথে। তাই তো নাজমুন ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা স্বপ্নকে ব্রতী করেই গত ২৩ বছরের কঠিন অভিযাত্রায় বাংলাদেশের পতাকা হাতে ভ্রমণ করে ফেলেছেন পৃথিবীর ১৬৭টি দেশ। সম্পূর্ণ একাকী ভ্রমণ করেছেন এতটা পথ।

আজ কবির কবিতার বাস্তব উদাহরণ হয়েছেন তিনি। সর্বাধিক রাষ্ট্র ভ্রমণকারী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়েছেন নাজমুন নাহার। ২০১১-২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি তার মাকে নিয়েও ঘুরেছেন ইউরোপ ও আমেরিকার ১৪টি দেশ। আল্পস পর্বতমালা থেকে শুরু করে বহু দর্শনীয় স্থানে ঘুরেছেন মাকে নিয়ে।

২০০০ সালে প্রথম দেশের বাইরে পা রাখেন প্রতিবেশী ভারতে। এরপর এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। ২০০৬ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যান ইউরোপের দেশ সুইডেনে। ভর্তি হন লুন্ড ইউনিভার্সিটিতে। এরপর অবারিত হয় নাজমুনের দিগন্ত। ২০০৭ সালে ফিনল্যান্ড দিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ শুরু। এরপর পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র, আরব ও ওশেনিয়া অঞ্চল, পশ্চিম আফ্রিকা-২৩ বছরে ১৬৭টি দেশ ভ্রমণ। রেখেছেন প্রতিটি মহাদেশে পা। ১৬৭তম দেশ হিসেবে সেন্ট লুসিয়া ভ্রমণ করেন নাজমুন।

নাজমুন নাহারের স্বপ্ন দ্রুতই জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৭টি দেশ ভ্রমণের। আরো স্বপ্ন, টেরিটোরী দেশ ভ্রমণের। দুইশ দেশে পা রাখলেই পৃথিবীর প্রথম মুসলিম মানবী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই হবে এই পরিব্রাজকের।

নাজমুন পৃথিবীর এক দেশ থেকে অন্য দেশে হাজার হাজার মাইল সড়কপথে একা ভ্রমণ করে চলেছেন নিজ দেশের পতাকা হাতে। এর আগে নারী হিসেবে শতাধিক স্বাধীন দেশ ঘোরার স্বীকৃতিস্বরূপ জাম্বিয়া সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ (পতাকাকন্যা) উপাধি।

মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে দারুণ খুশি মা তাহেরা আমিন। তিনি বলেন, ‘নাজমুন যখন আমার গর্ভে ছিল, তখন প্রায়ই আমি আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখতাম। ওর মধ্যে ছোটবেলা থেকে আমি ভিন্নতা লক্ষ করেছি। ছোটবেলা থেকেই নাজমুনের মধ্যে একটা উৎসাহ এবং কৌতূহল কাজ করত। যেকোনো কিছু নিয়ে জানার আগ্রহ ছিল প্রচুর। চাঁদ, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে অনেক প্রশ্ন করত। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল অনেক। সময়ানুবর্তী এবং পরিশ্রমী ছিল’।

২০১৮ সালের ১ জুন নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। বাংলাদেশের পতাকা হাতে জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী লিভিংস্টোন শহরে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ব্রিজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জিম্বাবুয়েতে পৌঁছান। এরই মধ্যে ১৬৮তম দেশ হিসেবে মঙ্গোলিয়া ভ্রমন করবেন।

নাজমুন স্কুল কলেজ শিক্ষার পাঠ লক্ষ্মীপুরে শেষ করেছেন। এর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘হিউমান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া’ বিষয়ে স্কলারশিপ পেয়ে আরেকটি ডিগ্রি অর্জন করেন।

উপাধি ও পুরস্কারের ঝুলি দিন দিন ভরে উঠেছে নাজমুনের। যুক্তরাষ্ট্রে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ‘পিচ টর্চ অ্যাওয়ার্ড,’ ও ‘ডটার অব দ্য আর্থ’ উপাধি। এর আগে পেয়েছেন ‘অনন্যা শীর্ষ দশ অ্যাওয়ার্ড,’ ও ‘তারুণ্যের আইকন’ উপাধি, ‘আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড,’ ‘গেম চেঞ্জার আওয়ার্ড,’ ‘অতীশ দীপঙ্কর আওয়ার্ড,’ ‘রেড ক্রিসেন্ট মোটিভেশনাল অ্যাওয়ার্ড’।

নাজমুনের জন্মই যেন ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বমানবতার কাছাকাছি পৌঁছানো, মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সব সময় অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন নাজমুন।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে

আপনার জন্য নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁও বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

মহান বিজয় দিবসে ও দিরাইয়ের সরমঙ্গল ইউনিয়নে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় জনমনে ক্ষোভ প্রকাশ

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার- ৪

রাজশাহীতে থিম ওমর প্লাজার ম্যানহল থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৭।

দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি: আ জ ম নাছির

জীবনের আরেক বসন্ত পেরিয়ে বিশ্ব পরিব্রাজক নাজমুন নাহার

ফুলবাড়ীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত

গভীর রাতে শীতার্তদের পাশে জেলা প্রশাসন

রংপুরে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, যোগাযোগ বন্ধ