সোমবার , ৩ অক্টোবর ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খেলাধুলা
  7. জাগো জবস
  8. জাতীয়
  9. দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. মজার খবর

সুপারি পারাকে কেন্দ্র করে গৃহবধুকে পিটিয়ে আহত করেছে মাদ্রাসার সুপার ও তার ভাই

প্রতিবেদক
Gias Uddin
অক্টোবর ৩, ২০২২ ৮:২০ অপরাহ্ণ

পিরোজপুরে সুপারি পারাকে কেন্দ্র করে গৃহবধুকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ওই গৃহবধুকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত খাদিজা বেগম (৪০) সদর উপজেলার মধ্য নামাজপুরের মোঃ আবু জাফর শেখ এর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় খাদিজা বেগম তার লিজ নেওয়া জমি থেকে সুপারী পারতে গেলে মাদ্রাসা সুপার আলী আকছার (অহিদুল ইসলাম) (৪৮) ও তার বড় ভাই মোঃ আলী আকবার শেখ (তহিদুল ইসলাম) (৫০) বাধা দেয় এবং মারধোর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা খুন করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় কামাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসা সুপার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। এমন কোন অবৈধ কাজ নাই যে তারা করে না। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনা। কেউ কিছু বললেই হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন করে।

ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বলেন, আমি আলী আকবার শেখ এর ছোট ভাই মোঃ কাওছার শেখ এর কাছে থেকে আগস্ট মাসে তাদের সুপারী বাগান এক বছরের জন্য লিজ নেই। পরে শুক্রবার আমি সুপারি পারতে গেলে মাদ্রাসা সুপার আলী আকছার ও সহ সুপার আলী আকবার এসে আমাকে বাধা দেয় এবং বলে কার অনুমতি নিয়ে সুপারী পারতেছিস। তখন আমি বলি আপনাদের ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে এক বছরের জন্য সুপারী বাগান লিজ নিয়েছি। তখন তারা দুজন বলে জায়গা কি ছোট ভাইয়ের একার তুই আমাদের কাছে বলিসনি কেনো? তারা আরো বলে তুই এই জমি রাখছ কেন? তোর টাকার গরম বেশি এই বলে তারা আমাকে বিশ্রী ভাষায় গালি দেয়। তখন আমি তাদের সাথে তর্ক না করে সুপারি পারতে গেলে হঠাৎ তারা এসে আমাকে লাথি দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং কিল ঘুষি এবং জিআই পাইপ দিয়ে মারতে মারতে আমাকে অজ্ঞান করে ফেলে। আমার ছোট ছেলে আমার সাথে ছিল। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তিনি আরও বলেন, এই মাদ্রাসা সুপার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তারা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা আগে জামাত করত পরে আওয়ামীলীগ এ যোগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা সুপার আলী আকছারকে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদ্রাসা সুপারের ছোট ভাই মোঃ কাওসার শেখ বলেন, আমি খাদিজা বেগমকে আমাদের সুপারী বাগান এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছি এবং আমার অপর দুই ভাইকে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে তারা বিষয়টি জানে। আমি শরিয়তপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করি গতকাল রাত্রে বাসায় এসেছি। তবে মারধোরের বিষয়টি সঠিক বলতে পারব না।

ভুক্তভোগীর স্বামী আবু জাফর শেখ বলেন, আমাদের এলাকার মসজিদে নামাজ পড়াতো আলি আকবার ও তার ভাই। কিন্তু তাদের কাজকর্মে এলাকার কোন মানুষ তাদের পিছনে নামাজ পড়ে না। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মসজিদের চাঁদা উঠিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করে। আমি মসজিদ কমিটির সভাপতি আমি হিসাব চাইলে তারা কোন হিসাব দেয় না। পরে তাদের এই কর্মকান্ডে তাদের সরিয়ে আমরা নতুন ইমাম নিয়োগ দেই। নতুন ইমাম নিয়োগ দেয়ার পর থেকে তারা আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সবকিছু জেনেশুনেও আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করেছে। আমি এর বিচার চাই।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাদের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রকৃয়াধীন।

সর্বশেষ - বরিশাল

আপনার জন্য নির্বাচিত