সোমবার , ২৩ মে ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. খেলাধুলা
  7. জাগো জবস
  8. জাতীয়
  9. দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. মজার খবর

ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করেন লক্ষাধিক টাকা মেহেদী হাসান শুভ

প্রতিবেদক
admin
মে ২৩, ২০২২ ৬:২৩ অপরাহ্ণ

রাকিব হাসান, মাদারীপুর। ঘরে বসেই সব কাজ তাঁর। কখনো বিদেশী কোন ক্লায়েন্ট সঙ্গে
দিনের কাজ বুঝে নিচ্ছে। আবার কখনো অনলাইনেই কারাচ্ছেন
ফ্রিল্যান্সিয়ের ওপর প্রশিক্ষণ। স্কুলের মত তারাও ঘন্টা মেপে চলে
ক্লাস। এভাবেই প্রতিদিন কেটে যায় মেহেদী হাসানের সময়।
এতে আয় তার বেশ ভাল। তাই ¯œাতক শেষ করেও চাকরির পিছনে না
ছুটে ঘরে বসেই হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। এতেই
মাসে আয় এখন লাখ টাকা।
মেহেদী হাসান ফ্রিল্যান্সিং জগতে পরিচিত শুভ নামে। থাকেন
মাদারীপুর শহরে একটি ভাড়া বাড়িতে। গ্রামের বাড়ি শহর থেকে
প্রায় ১০ কিলোমিটার ভিতরে ঝাউদি ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে।
বাবা আব্দুল কাদের সরদার ঢাকায় থাকেন। মা খালেদা বেগম
গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে মেহেদী সবার
বড়। তাই পড়ালেখার সুবিধার্থে সাত বছর আগে থেকে একাই
মাদারীপুর শহরে থাকেন মেহেদী হাসান। তখন একটি বেসরকারি
হাসপাতালে কর্মরত ছিল মেহেদী হাসান। হাসপাতাল থেকে যা
আয় হত তার একটি অংশ পাঠাতেন গ্রামের বাড়িতে। তবে
করোনায় কাজ হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। পরে ফ্রিল্যান্সিং
নিয়ে পূর্বের কিছু অভিজ্ঞতা চর্চা করেই এখন তিনি দক্ষ একজন
ফ্রিল্যান্সার। নিজেও গড়ে তুলেছেন অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম।
যেভাবে শেখানো হয় ডিজিটাল মার্কেটিং
একজন ফ্রিল্যান্সার ডিজিটাল মার্কেটিং কাজ করতে চাইলে
তাকে প্রথমে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে একটি কোর্স
করতে হবে। পরে নিজেকে দক্ষ করে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট প্লেসে
অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কাজের জন্য আবেদন করা যাবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ কী? মেহেদী হাসান
জানালেন, ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে, অনলাইন প্লাটফর্মের
মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সার্ভিস অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের
প্রচার-প্রসার করা। এই মাধ্যমটা সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে,
সার্স ইঞ্জিন অপটামাইজেশনের মাধ্যমে অ্যাপস অথবা
ওয়েবসাইটকে গুগলে টপ র‌্যাংকিং করা, ইমেইল মার্কেটিং,
এফিলিয়েট মার্কেটিং, সিপিএ মার্কেটিং, ভিডিও
মার্কেটিং ও কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সকল প্রাতিষ্ঠানের
পণ্য ও সার্ভিসের প্রচার-প্রসার কারাই ডিজিটাল মার্কেটিং।
এ কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেস ফাইভার, আপওয়ার্ক,
ফ্রিলান্সারসহ ইন্টারনেশনাল মার্কেট প্লেসে কাজ করে বিদেশ
থেকে অর্থ আয় করাই আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের কাজ।
ফ্রিতে শিখান ফ্রিল্যান্সিং
মেহেদী হাসান ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে নিজেই গড়ে তোলেন
‘ড্রিমস আইটি সলুশন’ নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম।
যদিও শুরুতে তার এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ার পিছনে লক্ষ ছিল প্রশিক্ষণ
দিয়ে আয় করার। কিন্তু শুরুর কয়েক মাস পরেই দেশে আসে মহামারী
করোনাভাইরাস। তখন মেহেদী হাসান নিজেও কাজ হারিয়ে পড়েন
বিপাকে। শুরুতে হোচট খেলেও দমে যায়নি তিনি। নিজের গড়া
প্রতিষ্ঠানটি দিয়েই ঘুরে দাড়ান এই তরুণ। এ পর্যন্ত প্রায়
তিন হাজার কিশোর ও তরুণকে বিনামূল্যে ডিজিটাল
মার্কেটিং নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়েছেন মেহেদী হাসান।
ফ্রিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয়
করছেন দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষক
মেহেদী হাসান গত ২ বছরে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি
তার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখান।
ফ্রিতে প্রশিক্ষণ অংশ নিয়ে এখন মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার
বেশি আয় করেন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের
শিক্ষার্থী তাজনিন তিশা। জানতো চাইলে এই নারী ফ্রিল্যান্সের
বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাহিরে চাকরি করতে গিয়ে অনেক সময়
নানা রকম হয়রানির শিকার হয়েছি। তারপর থেকেই চিন্তা, নিজে
কিছু করে চলবো। পরে বন্ধুদের মাধ্যমে ‘ড্রিমস আইটি
সলুশন’ থেকে ফ্রিতে ফ্রল্যান্সিং কোর্স করার সন্ধান পাই। পরে
তিন মাস অনলাইনে ক্লাস করেই ফাইভার মার্কেট প্লেসে
ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাই। এখন
প্রতি মাসে যা আয় আসে তা দিয়ে আমার সব খরচ সুন্দর ভাবে
চলে যায়।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফ্রিতে প্রশিক্ষণ নেন তৌহিদ হাওলাদার।
তৌহিদ পড়ালেখা শেষে বেকার থাকলেও তিনি এখন অনলাইনে ভাল
আয় করছেন। বর্তমানে কাজের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে
তৌহিদ বলেন, ‘আমি অনলাইনে কাজ করার ইচ্ছা অনেক আগ
থেকেই ছিল কিন্তু অনেক জায়গা কোর্স করার পরও ভাল কোন
গাইড লাইনের অভাবে কাজ করে ইনকাম করতে পারছিলাম না।
ফেসবুকে ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স শেখানো যায় এমন
বিজ্ঞাপন দেখেই মূলত ‘ড্রিমস আইটি সলুশন’ রেজিস্ট্রেশন
করি। কোর্স শেষ করে শুরুতে কাজ না পেলেও এখন মাসে ৪০০ থেকে
৫০০ ডলার আয় করছি।
ঘরে বসে করেন চাকরিও
বাংলাদেশ সরকারের লার্নিং এন্ড অর্নিং প্রোজেক্টের প্রশিক্ষক
হিসেবে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ব্যক্তিকে অনলাইনে ডিজিটাল
মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন মেহেদী হাসান।
বর্তমানে তিনি নতুন করে ‘ফিউচার আইটি ইনস্টিউট’
একটি কোম্পানিতে প্রতিদিন ৪টি ব্যাচে ২৪০ জন
শিক্ষার্থীকে অনলাইনে ক্লাস করান। এখানেও তিনি ডিজিটাল
মার্কেটিং শেখান। চারটি ক্লাস করে প্রতি মাসে মেহেদী
হাসান ফিউচার আইটি ইনস্টিউট থেকে পান ৭০ হাজার টাকা।
এখানেও শেষ নয়, নিজের বলার মত একটি গল্প ফাউন্ডেশন নামে আরও
একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে সেখানেও ডিজিটাল
মার্কেটিং শেখান তিনি।
মেহেদী হাসান বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর ঘরবন্দি হয়ে চিন্তা
করলাম এবার আবার ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ফ্রিলান্সিং
মার্কেটে কাজ করার চেষ্টা করি। তারপরই অনলাইনে ইন্টারনেশনাল
ডিজিটাল মার্কেটিং ওপর পূর্বের অবিজ্ঞতা ও একটি কোর্স
করে যাত্রা শুরু করি। সৃষ্টিকর্তার রহমতে খুব দ্রুত অপওয়ার্ক
মার্কেট প্লেসে টপরেটেট ফ্রিলান্সার ব্যাচ অর্জন করি।
পাশাপাশি ফাইবার মার্কেট প্লেসেও কাজ করে যাচ্ছি।
ইন্টারনেশনাল এই দুটি ওয়ার্কপ্লেসে কাজ করে আমি ভাল খুবই
ভাল আছি। তাই যারা অনলাইনে আয় করতে চায় তাদের ফ্রিতে কাজ
শেখাতে আমার নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান অজীবন বিনামূল্যে
ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবে।’
মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘরে বসেও যে চাকরি করা যায় তার এই
ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ না করলে বুঝতাম না। ঘরে
বসে আমি একদিকে চাকরি করি অন্যদিকে ফ্রিল্যাসিংও করতে
পারছি। দুটো কাজই আমার খুবই ভাল মতই হচ্ছে। এখন আমার লক্ষ্য
নিজেকে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আরও বেশি এগিয়ে নেওয়া।
পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে থেকে তাদের
প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকেও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

সর্বশেষ - বরিশাল

আপনার জন্য নির্বাচিত