রাজাপুর ড্রেন নির্মাণের নামে চেয়ারম্যানের খাল দখলের চেষ্টা

0

ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারী কলেজ রোড ও মন্দির মসজিদ সংলগ্ন সদরের দক্ষিণ মাথা বাজার এলাকায় যেতে মহাসড়ক ঘেঁষা এলজিইডি রাস্তার পাশে ধোপা বাড়ি খালটি দখলের উদ্যেশ্যেই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। গত বুধবার বিকেলে সরকারী টাকায় রাজাপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধার ব্যক্তি স্বার্থে নির্মিত এ ড্রেনের কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, রাজাপুর শহরের দক্ষিণ মাথায় বাজার রোডের মুখে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় যে ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে তার পশ্চিম পাশেই পঁচিশ ফুট চওড়া এসএ রেকর্ডীয় একটি পুরানো খাল রয়েছে যা ধোপা বাড়ি খাল নামে পরিচিত। এ খালটি রাজাপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধা তার ক্রয়কৃত জমির সাথে থাকায় খালের জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল নিচ্ছে। এখন সেই দখলকৃত খালের পাশের রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করে খালের জমি নিজের করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা আরও জানায়,এই রাস্তার পশ্চিম পাশ থেকে আরও একটি রাস্তা মন্দিরের সামনে থেকে রাজাপুর বাজারের সাথে গিয়ে মিশেছে । দুই রাস্তার মাঝ খানে পশ্চিম পাশের রাস্তার পরে পূর্বদিকে প্রায় পচিশ ফুট জায়গা ব্যক্তি মালিকাধীন ছিল যা চেয়ারম্যান গত তিন বছর আগে কিনে নিয়ে নিজের জমির সাথে খালটিও বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন খালের জমি বাদ দিয়ে রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয়দের বিষয়টি নজরে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, পচিঁশ ফুটের এই ধোপা বাড়ি খালটি দখলের পরেও প্রায় পনের ফুটের মতো খাল ছিল, যা চেয়ারম্যান দখলের উদ্দেশ্যে জরুরী ভিত্তিতে রাস্তা কেটে একটি ড্রেনের ব্যাবস্থা করেছে। আমরা স্থানীয়রা এব্যাপারে সহকারী ভূমি কমিশনার ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

স্থানীয় আর এক বাসিন্দা সাবেক অধ্যাপক সোহরাব হোসেন বলেন, এটি একটি পুরানো খাল । এ খালে এক সময় বড় মালবাহী নৌকা ভিড়ত। সময়ের সাথে সাথে খালের পাশের বাসিন্দারা যে যার মতো দখল করে নিয়েছে। বাকি যেটুকু ছিল সেটুকুও দখল করে রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। যা এলাকাবাসীর কোন প্রয়োজনে আসবে না।

এব্যাপারে রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা মজিবর বলেন, খাল আমি দখল করিনি , পশ্চিম পাশে খাল এখনও আছে। আপনি সরাসরি এখানে আসলেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন।আজ দুপুরে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে খাল উদ্দারের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন পুনরায় খালের জায়গা নির্ধারণের জন্য উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নকশা অনুযায়ী মেপে সিমানা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে