রুহিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মেরে গলায় ফাঁস দেয়ার অভিযোগ!

0

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানাধীন ১৪ রাজাগাঁও ইউনিয়নের উত্তর আসাননগড় গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে (বুলু) এর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শাহানাজ বেগমকে (২৪) মেরে গলায় ফাঁস দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত রবিবার ( ২ মে) দুপুর আনুমানিক ১২ টায় সময় নিজ শোয়ার ঘরের বাশের রোয়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মৃত শাহানাজ বেগম পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রাজাগাঁও গ্রামের মৃত শফিউদ্দিন মুন্সির একমাত্র কন্যা বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, শাহানাজ বেগম এর বিয়ে হওয়ার মাত্র ১ বছর হলো এবং শাহানাজ বেগম ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল , কিন্তু বিয়ের আগে থেকে শাহানাজ বেগমের মাথায় সমস্যা ছিল , কিন্তু আজকে রহস্য জনক ভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

আবার কিছু কিছু স্থানীয়রা বলেন, সত্যিই কি গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে নাকি মেরে ফেলা হয়েছে সঠিক এখনো বলা যাচ্ছে না পোস্টমর্টেম না হওয়া পর্যন্ত।
তাই মৃত শাহনাজ বেগম কে নিয়ে এলাকায় খুব চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে

মৃত শাহানাজ বেগম এর ভাই আব্দুস ছামাদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে আগে মেরে তার পরে গলায় ফাঁসের কল্পকাহিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাকে সকালে মুঠোফোনে বলেন যে আমার বোন এক্সিডেন্ট করেছে, আসার পরে শুনি এক্সিডেন্ট না গলায় ফাঁস দিয়েছে কিন্তু প্রশাসনকে না জানিয়ে লাশকে নিচে নামিয়ে বারান্দায় শুয়ে রেখেছে। আর আমার বোনের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় এতে সন্দেহ হয় যে আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলেছে
আমার বোন কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না।

এইদিকে, মৃত শাহানাজ বেগম এর চাচা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাতিজি কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না,আমার ভাতিজী আগে একটু অসুস্থ ছিল, কিন্তু গত এক বছর ধরে পুরোপুরি সুস্থ । তিনি আরও জানান, দোষীদের বাচানোর জন্য এই স্থানীয় কিছু লোকজন আমার ভাতিজীকে অসুস্থ বলতেছেন । তাই প্রকৃত ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মৃত শাহানাজ বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক জানান, সকালে আমরা সবাই মরিচ ক্ষেতে মরিচ তুলতে যাই দুপুর ১ টার সময় আমরা বাড়িতে শাহানাজকে ডাকলে কোন উত্তর না পেয়ে পরে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ এবং জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় শাহানাজ গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। তারপর অন্য ঘরের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে শাহানাজ এর লাশ ফাঁস থেকে নামাই।

১৪ নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার আত্মহত্যার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, বিষয় টা আমিও শুনেছি এবং রুহিয়া থানায় অবগত করছি, লাশ রুহিয়া থানা পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ওই যে উমরাহ নাকি (১,৫০০০০) দের লাক্ষ টাকা চাহাছে নানাই..এখন এমারঠে আইজ নাকি নাই টাকা বেলে এলার তানে এমরাহ লাগাইছে হিমিজারি, এখন উমাখ টাকা লিবা লাগলে লিভা লাগবে কাইল।

এই বিষয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, মৃত শাহানাজ বেগম এর বাবার বাড়ির লোকজন মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ করায় লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে, আগামীকাল লাশ মর্গে পাঠানো হবে । রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে