সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, রৌমারীতে সাংবাদিক অফিসের তালা খুলছে না

0

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে কালের কন্ঠের সাংবাদিকের ব্যক্তিগত (ভাড়া দোকান) অফিস কাম কুরিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালা দেয়ার ৫দিন পার হলেও রবিবার পর্যন্ত তালা খুলে দেয়া হয়নি। মন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত মন্ডল ১৫/১৬ সহযােগিকে নিয়ে বুধবার দুপুর ২টার দিকে রৌমারী উপজেলা রােড সাংবাদিকের অফিস কাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্য সস্ত্রাসী কায়দায় তালা লাগানাে হয় বলে অভিযােগ করা হয়েছে। এঘটনায় ওইদিন রাত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযােগ দায়ের করায় পাঁচদিন হলেও মামলাও নেয়নি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান , তালা লাগানাের বিষয়টি সঙ্গে রৌমারী থানা পুলিশকে জানানোর পর দুইজন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা তালা দেয়ার ঘটনা পুলিশকে জানানোর পরও তারা তাক্ষনিক কোন উদ্যাগ না নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গেই কিছুক্ষন গল্পগুজব করে চলে যান। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মন্ত্রীর ভাই তার দলবল নিয়ে সাংবাদিকের দােকানের সামনে আড্ডা দেয়া শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের অসংখ্য গ্রাহক হয়রানির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদ তালাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বাইরে দাঁড়িয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের জরুরী কিছু কার্যক্রম চালানাের চেষ্টা করলে সেখান থেকে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারীকে নানা ধরণের হুমকি ধামকি দিয়ে বলা হয় এখান কালের কন্ঠের সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাসকে কােন অফিস করতে দেয়া হবে না। এবং তার কুরিয়ার ব্যবসাও গুটিয়ে নিতে হবে এখান থেকে। তাদের হুমকিতে গত ৫দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ব্যবসা।

এদিকে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস অভিযােগ করে বলেন, বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে, স্বাধীনতা দিয়েছে সাংবাদিকদেরও। তাহলে সত্য সংবাদ প্রকাশ করে আমার অপরাধটা কি। মন্ত্রীর লােকজন বলছে আমি মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে, মন্ত্রী নিয়ে আর কােন সংবাদ না করার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিবে। এর আগে তারা তালা খুলে দিবে না বলে আমাক জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি তাদরকে বলে দিয়েছি আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববােধ বিলিয়ে ক্ষমা চাওয়া আমার পক্ষ সম্ভব নয়। এনিয়ে রৌমারী থানার ওসিকে বিষয়টি জানানাের পর তিনি বলেছেন একটা লিখিত অভিযােগ দেন। আমি ঘটনার দিন রাত থানায় অভিযােগ দায়ের করেছি
ওই সাংবাদিক আরাে জানান, থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযােগ দেয়ার পর থেকে ওসি’র সঙ্গে যােগাযােগ করি তিনি বলেছেন আমি ব্যাবস্থা নিচ্ছি। তার পর আবারো ওসিকে ফোন দিলে ওসি বলেন মন্ত্রীর লোকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে অপেক্ষা করুন। এ বিষয়টি রৌমারীর ইউএনও’সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশ নিয়ে এভাবে ঘরে তালা দিতে পারেন না তিনি। ঠিক আছে আমি দেখছি। ঘটনাটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককেও আমি অবহিত করেছি ।এ ছাড়াও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব নীলু ও সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লবের সঙ্গে কথা বলেছি ।
এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা মানববন্ধন কর্মসূচীর উদ্যােগ নিলে ইউএনও ও থানার ওসি কর্মসূচীত পালন করতে নিষেধ করেন। কর্মসূচী পালন বাঁধা দেন মন্ত্রীর লােকজনরা ফলে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করতে পারেননি সাংবাদিকরা। এ প্রসঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাকের রৌমারী প্রতিনিধি আমির হােসেন, দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি এসএম সাদিক হোসেন বলেন, আমরা যারা নিয়মিত সাংবাদিকতা করি তারা চরম কােনঠাসার মধ্যে পড়ে আছি। অপসাংবাদিকদের জন্য রৌমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেন প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেনের চাচা। প্রেসক্লাবের প্রায় সব সদস্য মন্ত্রীর ভাই ভাতিজা। সাংবাদিকতা না করেই মন্ত্রীর প্রভাবে প্রেসক্লাবের সদস্য হয়ে প্রকৃত সাংবাদিকরা অসহায়।সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি।
নিযার্তিত সাংবাদিক ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা করেন সেই ঘরের মালিক মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, ‘আমার ঘর ব্যবহার করছেন সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস। তার কাছে কােন পাওনা নেই আমার। আমার কােনা অভিযােগ নেই অথচ ঘর ভাড়া বাকী রয়েছে বলে মিথ্যা বানােয়াট কথা বলেছে। আমার ঘরে তালা লাগানোর নিন্দা জানাই। আমি ইউএনও ও থানার ওসিকে বলে দিয়েছি আমার ঘরে লাগানাে তালা খুল দেয়ার জন্য।’

উল্লেখ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেনের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক কালের কন্ঠে গত ২৫ এপ্রিল একটি সচিত্র প্রতিবদন প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেন। মন্ত্রীর নির্দেশে পেয়ে তার ছােট চাচাতাে ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত এবং তার সঙ্গীয় ১৫/১৬ জনের একটি দল গত ২৮ এপ্রিল বুধবার দুপুর ২টার দিকে রৌমারী উপজেলা রােডে কালের কন্ঠের সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাসের ব্যক্তিগত অফিস কাম কুরিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উপস্তিত হয়ে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। হুমকি দিয়ে বলেন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউজ করার ফল তাকে ভােগ করতে হবে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে ওই সাংবাদিক অফিসের বাইরে চলে যায়। এর কয়েক মিনিট পর মন্ত্রীর ওই ভাই দলবল নিয়ে আবার এসে সাংবাদিককে খুজতে থাকে। তাকে না পেয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালা লাগিয়ে দেয়।

এবিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী স্যারের সঙ্গে যােগাযােগ করার চেষ্টা করেও পাইনি। মন্ত্রীর লােকদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাতে তালা খুলতে মন্ত্রী স্যারর সঙ্গেই কথা বলতে হবে। আমি আজ বিকালে স্যারের বাসভবনে গিয়ে কথা বলে তালা খােলার ব্যবস্থা করবো।’ একই ধরনের কথা বলেন রৌমারী থানার ওসি মােন্তাছির বিল্লাহও তিনি বলেন, ‘আমি কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ঘুরছি।’ মামলা প্রসঙ্গে বলেন, মামলাও নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন আমার ইউএনও অনেক চেষ্টা করছেন।আমি মন্ত্রী মহোদয়কে ফোন করেছি তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে