নীলফামারীতে মানবতার সেবায় তৎপর পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান

0

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দিন বদলের সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে পাল্টে যাচ্ছে নীলফামারীর চিত্র আর যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। করোনাকালীন সময়েও থেমে নেই পুলিশের কার্যক্রম। বিট পুলিশিং এর তৎপরতায় কমে গেছে সন্ত্রাস বাহিনী, জমি নিয়ে জোরজবর দখল, চুরি ,ডাকাতি, জুয়া, মাদকাসক্ত,যৌতুক ও নারী নির্যাতন, অবৈধ গরু পাচার, জঙ্গী সংগঠন, অপপ্রচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কার্যক্রম। প্রতিনিয়ত এ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম। তিনি নীলফামারীতে যোগদানের পরেই পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে চালু করেছে ৭৪টি বিট পুলিশিং সেন্টার। অপরাধ নির্মুল, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও দালালদের খপ্পরের হাত থেকে রক্ষার্থে প্রতিটি পুলিশিং সেন্টারে কার্যক্রম পরিচালনা করবে ৪জন করে পুলিশ। এমনকি হাতের নাগালে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হওয়ায় সুফল ভোগ করছে সাধারণ জনগণ। থানা গুলোতেও মামলা আসছে অনেক কম।
শুরু থেকেই করোনা মহামারীর করাল গ্রাস প্রতিরোধে চলমান রেখেছেন সাধারন জনগণকে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। আন্তঃজেলা যান চলাচলে যাত্রীরা শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখছে কিনা দেখভালের জন্য সড়কের মূল পয়েন্ট গুলোতে বসিয়ে রেখেছে ১১টি পুলিশের চেক পোষ্ট। শুধু তাতেই থেমে নেই মানব সেবার কাজ। প্রতিটি অফিসে চালু করেছে নো মাস্ক নো সার্ভিস । এমনকি শ্লোগানও দিচ্ছেন মাস্ক পড়ার অভ্যেস করোনা মুক্ত বাংলাদেশ।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত হতদরিদ্র, অসহায়, দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। নিজস্ব অর্থায়নে রাতের আধারে ছিন্নমূল মানুষ গুলোকে খুঁজে বের করে বিলিয়ে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী। মাস্ক বিতরণের তো বিকল্প নেই। তার নির্দেশনায় প্রতিনিয়তই চলছে অসহায় মানুষদেরকে মাস্ক বিতরণ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাড়াতে রেখেছেন কঠোর নির্দেশনা। এমনকি করোনা অক্রান্ত মৃত্যু ব্যক্তিদের দাফন কাফনের জন্য গঠন করে দিয়েছেন পুলিশের ১০সদস্য বিশিষ্ট ৭টি কমিটি। মানব সেবায় জরিয়ে পড়া এই মানবিক পুলিশ সুপার নিজেই হয়েছিলেন করোনায় আক্রান্ত। সুস্থ্য হওয়ার পরেও বন্ধ রাখেননি মানব সেবার কাজ।

পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা জনগনের সেবায় কাজ করি। জনগনের কাছে যাইতে ভয় পাই না। মানুষ পুলিশকে শত্রু ভাবার কোন সুযোগ নাই। বন্ধু হয়ে জনগণের সেবায় কাজ করতে চাই। সাধারন মানুষ যাতে করোনা ভাইরাস ভয় না সেজন্য পুলিশ বাহিনী কঠোর তৎপর। দুর্নীতি কমাতে আমরা পুরো জেলায় সিসি টিভি ক্যামেরা আওতায় আনতেছি। না খেয়ে কোন শ্রমিক থাকবে না। সে দিকে পুলিশের কঠোর নজরদারী রয়েছে। ইতোমধ্যে চলনবিল এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা পরিষদ গুলোর সহযোগিতায় স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তার সহিত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে কাজে পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। এতে শ্রমিকরা ফিরে পাবে অর্থিকভাবে সচ্ছলতা এবং তাদেরকে করোনা সতকর্তা অবলম্বেনে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশ ফেরত বা বিদেশি পর্যটক যারাই এ জেলায় প্রবেশ করছে তাদেরকে রাখা হচ্ছে হোম কোয়রিন্টিনে। বর্তমানে ১৮৩জনকে বিদেশ ফেরত নাগরিককে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারিন্টে। এদের মধ্যে ৮৮জন আছে ভারত থেকে আসা। তাদের স্বাস্থ্য পরিক্ষাসহ রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারীতে। যাতে জনগণের মাঝে অতঙ্কের সৃষ্টি না হয় সেই দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে