রাণীশংকৈল ভুমি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে খারিজ বাণিজ্যের অভিযোগ

0

আনোয়ার হোসেন আকাশ,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা ভুমি অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে খারিজ নিয়ে বাণিজ্যের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগটি উপজেলার সন্ধারই গ্রামের ভুক্তভোগী সাদ্দাম আলী করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন,উপজেলা ভুমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব ও হোসেনগাঁও নন্দুয়ার ইউপির উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তা হর্ষ বর্ধন সিংহ।

লিখিত এ অভিযোগটি তিনি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) প্রেস ক্লাব বরাবরে দিয়েছেন।

গত ২৭ এপ্রিল পাওয়া লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বিগত তিস মাস পূর্বে সাদ্দাম আলী তার ক্রয়কৃত পনের শতক জমি খারিজের জন্য উপজেলা ভুমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিবের কাছে যায়। শাকিব সব কাগজ পত্র দেখে তার কাছে খরচ বাবদ মোট ১৮ হাজার টাকা চাই। এত টাকা দিতে অপরাগতা করায় সাদ্দামের কাগজ ঘুরিয়ে দেয় শাকিব।

পরে অনুরোধ করে ১৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় সাদ্দাম। ঐ দিনই সাদ্দামের কাছে ৫ হাজার টাকা বায়না নেই নাজির শাকিব। এবং আবেদনের জন্য আরো দুইশত টাকা নেই। পরে আবারো এসিল্যান্ডের নামে ৮ হাজার টাকা চাই শাকিব।

সাদ্দাম তার পালিত একটি ছাগল বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় এবং নিজে এসিল্যান্ডকে টাকা দিতে চাইলে শাকিব বলেন, এসিল্যান্ড সরাসরি টাকা নেই না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে পছন্দ করে না। নাজির শাকিব সাদ্দামকে জানান, প্রয়োজনে এসিল্যান্ড স্যারকে টাকা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে তোমাকে দেখানো হবে। এ বলে টাকাটা নেই।

পরে খারিজের প্রক্রিয়া অনুযায়ী শাকিব সাদ্দামকে কাগজ নিয়ে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তা হর্ষ বর্ধন সিংহের কাছে পাঠান এবং তাকে তিন হাজার টাকা দিয়ে খারিজে স্বাক্ষর নিতে বলেন।

শাকিবের কথা মতে ইউপি ভুমি অফিসে হর্ষ বর্ধনের কাছে সাদ্দাম গেলে সে তাকে গালিগালাজ করে ৩ হাজারের বদলে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। না হলে স্বাক্ষর হবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে সাদ্দাম তাকে অনুরোধ করে তিন হাজার টাকা দেয় এবং খাজনা চেক বাবদ ১১শত ৫০ টাকা দিয়ে পূনরায় উপজেলা ভুমি অফিসে এসে শাকিবকে কাগজ পত্র গুলো দেয়।

এ সময় শাকিব সাদ্দামকে একটা বড় বেনশন সিগারেটের প্যাকেট আনতে বলে কথা অনুযায়ী সিগারেটের প্যাকেটও এনে দেয় সাদ্দাম। এর পরে শাকিব সাদ্দামকে জানাই শুনো সাদ্দাম তোমাকে এখন এসিল্যান্ড স্যারের কাছে নিয়ে যাবো। টাকা নেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে বলবা খারিজের চেক কাটা ছাড়া অন্য কোন টাকা দেওয়া হয়নি। আর টাকা নেওয়ার কথা বললে এক বছরেও কাজ হবে না। তাছাড়া তোমাকে তো বলেছি মোবাইলে এসিল্যান্ড স্যারকে টাকা দেওয়ার ভিডিও তোমাকে দেখাবো।

অভিযুক্ত উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তা হর্ষ বর্ধন সিংহ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব বলেন, প্রমাণ থাকলে স্যারকে দেখান, মানুষ কি ছোট বাচ্চা ফিটার খায়। যে, আমাকে টাকা দিবে আর আমি শিখিয়ে দিবো টাকা দেন নি স্যারকে বলবেন, তাই বলবে।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি প্রীতম সাহা বলেন, তারা বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ করেছে সেখান থেকে যা নির্দেশনা আসবে তাই হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে