রাণীশংকৈলে পাহারায় চলে, এক সাটারে দোকানদারি !

0

আনোয়ার হোসেন আকাশ,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি: তিন অথবা পাঁচ সাটারের দোকানে একটি সাটারের অর্ধেক তুলে ক্রেতার কাছে চলে বেচাকেনা। আবার এক সাটারের ভেতর দিয়ে দোকানে ক্রেতা প্রবেশ করালেও সাটারের বাইরে একজন দাঁড়িয়ে কেউ আবার ঢুল নিয়ে বসে থেকে দেয় পাহারা।

পুলিশ বাহিনী কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কোন গাড়ি দেখলেই দ্রুত সাটার নামিয়ে দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ায় যেন এখন তাদের নিত্যদিনের কাজ।

এ চিত্র ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দোকানদারদের।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকান খোলা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্দেশনা জারি করেন সরকার।

তবে রাণীশংকৈল উপজেলায় মানুষের অবাধ চলাফেরা ও সব দোকানেই দেখা গেছে লুকোচুরি করে বেচাকেনা করতে । এতে বিশেষ করে শহর জুড়ে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের বন্দর বাজারে খুচরা কাপড় বিতান, জুতা, কসমেটিক, হার্ডওয়্যার সিমেন্ট, টিন, রড, বিপনীবিতান, শপিংমল, ও চা পান দোকানগুলোতে বেচাকেনা করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের এক সাটার খুলে ক্রেতাদের দোকানের ভেতরে নিয়ে বেচাকেনা করছে, আবার কেউ দোকানের ভেতরে ক্রেতাদের নিয়ে বাইরে থেকে সাটার বন্ধ করে বেচাকেনা করছে। বেচাকেনার ক্ষেত্রেও উপেক্ষা করা হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি ।

একাধিক দোকানে গিয়ে দেখা যায়, মুখে মাস্ক না ব্যবহার করে দোকানের টুলে পাশাপাশি বসে হর-হামেশাই ক্রেতা-ক্রেতারা কথাবার্তা বলছেন।

হরিপুর উপজেলা থেকে আসা সাইফুল নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘হরিপুরে তেমন ভালো কাপড় সহজে মেলে না। তাই রাণীশংকৈলে এসেছি কাপড় কিনতে।’

গোগর এলাকার এক নারী বলেন, ‘শিশুর জামা-প্যান্ট নিতে এসেছি। শুনেছি দোকান খোলা থাকে, তাই এসেছি কিনতে। কিনেও ফেলেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার বলেন, ‘আমাদের প্রায় দোকানেই দু-চারজন করে কর্মচারী রয়েছে, আমাদের পরিবার রয়েছে। বিগত নয় দিন ধরে লকডাউন চলছে। তার উপর রমজান মাস এমনিতেই পারিবারিক খরচ বেশি হয় এ মাসে। তাই উপায়ন্তর না পেয়ে লুকোচুরি করে সামান্য বেচাকেনা করে দোকান কর্মচারীসহ আমাদের পরিবারগুলো কোনমতো চালিয়ে নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৗর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘ব্যবসা বাণিজ্যের চেয়ে আগে নিজের জীবন বাচাঁতে হবে। তাই সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞা নির্দেশনা মেনে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রেখে এই কয়েকটা দিন তাদের কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারণ দেশ যদি ভালো না থাকে তাহলে আপনি আমি কেউ ভালো থাকবো না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনার বাইরে কেউ দোকান-পাট খুললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য আমাদের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে