ঠাকুরগাঁওয়ের বড়গাঁওয়ে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালীদের মার্কেট নির্মাণ

0

মামুনুর রশিদ (মামুন): ঠাকুরগাঁওয়ে বড়গাঁও ইউনিয়নে প্রাচীন যুগের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এতে চরম বিপাকে ও হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫ শত পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৪ নং বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীর হাট বাজার এলাকায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষীরহাট বাজারের উত্তর পাশে দেবীপুর মুন্সির হাট যাওয়ার রাস্তায় প্রাচীন যুগের কালভার্টটির বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার মুখে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এতে চরম বিপাকে ও হুমকির মুখে স্থানীয় ৫ শত পরিবার।

জানা যায়, ২০ ফিটের কালভার্টটি দীর্ঘদিন থেকে বন্যার পানি প্রবাহিতের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছিলো কিন্তু হঠাৎ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শামসুউদ্দিন, জহিরুল ইসলাম ও কাদের মাস্টার কালভার্টের পাশে রাতের আধারে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করে। এতে বন্ধ হয়ে যায় পানি প্রবাহিত হওয়ার স্থান।
ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম জানান, বন্যার সময় আমরা বাড়ীতে থাকতে পারি না। ঘরের মেঝেতে পানি উঠে। আমাদের অনেক কষ্ট করে দিন কাটাতে হয়। এখন আরোও অনেক সমস্যা হবে। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার রামবাবুর নাম ভাঙ্গিয়ে শামসুদ্দীন নামে এক ব্যক্তি কালভার্টের পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। আমরা প্রায় ৫ শত পরিবার হুমকির মুখে আছি। কারণ বন্যার সময় আমাদের এলাকা ডুবে যায়। আবার যদি কালভার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমরা বাধা দিতে গেলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি অতিদ্রুত একটা সমাধান পাবো।
আশেপাশের ও বাজারের স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি কালভার্টটি প্রভাবশালীদের দখল হতে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শামসুদ্দীন বলেন, আমি কালভার্টের মুখ বন্ধ করিনি। আর ঐ জায়গাটা আমার না। টিকাদার রামবাবুর জায়গা আমাকে দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমার কিছু বলার নেই।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রামবাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জায়গাটা আমার তবে আমি শামসুদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়েছি। কিন্তু কালভার্টের কোন সমস্যা হলে স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
আরেক অভিযুক্ত কাদের বলেন,
অন্যান্যরা যদি স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে আমিও ভেঙ্গে ফেলবো।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কামরুল হাসান সোহাগ জানান, আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছে। যদি তারা আইন না মানে তাহলে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, সরকারি কালভার্টের পাশে কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরী করতে পারবে না। আমি অতিদ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে