পঞ্চগড়ে সরকারি গাছ বিক্রি করে টাকা হরি লুট

0

মনজু হোসেন, পঞ্চগড় থেকে : পঞ্চগড়ে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা টাকা লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দুই ইউপি সদস্য ও সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনে সভাপতির বিরুদ্ধে।

উন্নয়নের নামে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা এবং সেসব গাছের বিক্রীত প্রায় ৪ লাখ টাকা ৩নং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নয়ন হোসেন, ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনে সভাপতি মিলে
ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৩নং পঞ্চগড় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সুবিধাভোগী নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে বিভিন্ন রাস্তায় ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, মেহগনি, কাঁঠালসহ ফলজ জাতীয় কয়েক প্রজাতির গাছ রোপন করে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর সেই গাছ কেচেরা পাড়ার ছায়দারের বাড়ি থেকে হায়দারের বাড়ি ২৫ টি আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস এবং তিনমাইল থেকে ডাঙ্গাপাড়ার মেহগনি ৩৫ টি গাছ ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশন এর আওতাভুক্ত দেখিয়ে ইউপি সচিব নয়ন হোসেনসহ, আ. জব্বার ,রেজাউল ইসলাম (মেম্বার) ও উপজেলা প্রশাসনের সাঁটলিপিকার ইয়াসিন আলীর যোগসাজশে নিয়ম মেনে প্রায় ৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রিকৃত অর্থের ৫৫% সুবিধাভোগীরা পাওয়ার কথা থাকলেও , দুজন সুবিধাভোগীকে দেয়া হয় সর্বসাকুল্যে ২৫ হাজার টাকা।
অবশিষ্ট টাকা ভাগ করেন ইউপি সচিব।

জানা যায়,ইউনিয়ন সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও ইউপি পরিষদের চুক্তিতে বিভিন্ন সড়কের গাছ বিক্রি করেছেন ২৫ লক্ষ টাকায়। সেই টাকা থেকে পরিষদ পায় ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
অপরদিকে মেহগনি ৩৫ টি ও ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি ২৫ টি গাছ বিক্রির প্রায় ৪ লক্ষ টাকা পায় ইউনিয়ন পরিষদ।
সেই ৪ লাখের ৩ লাখ টাকার মাত্র ২৫ হাজার টাকা সুবিধাভোগীকে দিয়ে বাকী প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভাগাভাগি করেছেন সচিব ও দুই ইউপি সদস্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যাক্তি বলেন,ফেডারেশন ২৫ লাখ টাকার ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা ইউনিয়ন পরিষদের কমিশন ,আরোও ৩ লাখ ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা প্রশাসনের সাঁটলিপিকার ইয়াসিন আলীকে উৎকোচ বাবদ ভাউচার দেখায় ৬ লাখ টাকা।

গাছ বিক্রির ৪ লাখ টাকা লুটপাটের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিয়ে পারেন নাই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো, নয়ন হোসেন।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি গাছ বিক্রি টাকার বিষয়ে কিছু জানিনা। সেটা সচিবই ভাল বলতে পারবেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফ হোসেন জানান, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা লিখিত অভিযোগ করলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে