চিলমারীতে কিশোর কিশোরী ক্লাবের টাকা আত্মসাৎ করছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সখিনা

0
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি আর অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে লুটপাটে মেতেছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সখিনা খাতুন, যতই দিন যাচ্ছে ততই অভিযোগের পাল্লা ভারি হচ্ছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই চেয়ারে বহাল তবিয়তে ৯ বছর থাকার কারনে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা ।
জানাগেছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই সব কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নাস্তা বাবদ সরকার অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছেন। বরাদ্দ অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাবে ৩৫ জনের নাস্তা বাবদ জনপ্রতি ৩০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ১২ থেকে ১৮ টাকার নাস্তা সরবরাহ করছেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। প্রতি মাসে উপজেলার এসব ক্লাবে ৮দিনে এক হাজার ৬৮০ জনের মোট ৫০ হাজার ৪০০টাকা মাসিক বরাদ্দ দেয়া হলেও বেশির ভাগ টাকা  মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সখিনা খাতুনের পকেটে যাচ্ছে । এতে করে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে সুবিধাভূগিরা।
সরেজমিন গিয়ে জানাযায় থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়িহাট ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে শিক্ষর্থী শাহারিয়া, ইভা, পারুল জানান আমাদেরকে ১০ থেকে ১৫ টাকার নাস্তা দেয়া হয় আবার অনেকে সময় ১৫ থেকে ২০ টাকার  খাবার দেয়া হচ্ছে আবার কিছু কিছিু দিন  নাস্তা দেয়া হয়না ।
এবিষয়ে দায়িত্বরত শিক্ষক ইসরাত জাহান ইতু বলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা যে দোকান থেকে নাস্তা নিতে বলেছেন সেই দোকান শুক্রবার ১৯ মার্চ দোকান বন্ধ থাকায় সেই দিনের নাস্তা দেয়া হয়নি। বরাদ্দের তুলনায় নাস্তার পরিমান কম দেয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন নয়ারহাট ইউনিয়নের কিশোর কিশোরী ক্লাবের শিক্ষক সুজান্ত ।তিনি আরো বলেন, দুইদিনের বরাদ্দ থাকলেও আমাকে একদিনের করে নাস্তা দেয়া হচ্ছ।
কোন কোন ক্লাবে শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলেও সেই  বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করছেন এই কর্মকর্তা।
এ  বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সখিনা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নাস্তা দেয়া হচ্ছে ।বিল নিতে গেলে হিসার রক্ষণ অফিসে টাকা ঘুষ দিতে হয় এছাড়াও অনেক খরচ তো আছেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, কিশোর কিশোরী ক্লাবের বরাদ্দের বিষয়টি আমার জানা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে