দেবীদ্বারের ফখরুল ইসলাম মূন্সী করোনায় আক্রান্ত আরোগ্যলাভে সাংসদ পুত্রের দোয়া প্রার্থনা

0

এ আর আহমেদ হোসাইন( দেবীদ্বার-কুমিল্লা)প্রতিনিধি// দেবীদ্বারের প্রবীণ রাজনীতিক বাংলাদেশ আ’‘লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক উপ-মন্ত্রী ও সাবেক এমপি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী অসুস্থ। তিনি COVID-19 পজেটিভ-এ আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে অধ্যাপক ডা: মো নুরুল ইসলাম’র তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশ- বিদেশে থাকা সকল প্রিয়জনদের নিকট দোয়া কামনা করেছেন সাংসদ পুত্র রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

এ নেতার রাজনৈতিক জীবনের সুদীর্ঘ ৪০ বছরেরও অধিক সময় ধরে দেবীদ্বারের মাটি ও মানুষের পাশে থেকে স্বর্নালী দিনগুলো কাটিয়েছেন। তার যৌবনের উচ্ছল দিনগুলো থেকে অদ্যবধি তার শিক্ষা, মেধা, শ্রম, চিন্তা-চেতনা উজার করে দিয়েছেন। আজ তিনি বৈশ্যিক মহামারি করোনা পজেটিভে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল বেডে জীবন মৃত্যু সন্ধিক্ষনে।

তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্ম জীবন ঃ
এ, এফ এম, ফখরুল ইসলাম মূন্সী ১৯৪৭ ইং সনের ২৯ নভেম্বর দেবীদ্বার উপজেলার ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন’র বনকোট গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মরহুম নুরুল ইসলাম মূন্সী ছিলেন জেলা রেজিষ্টার। মাতা মরহুম ফিরোজা বেগম গৃহিনী। তিনি সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মৌলভী মফিজ উদ্দিন আহমেদ’র নাতী, এবং সাবেক মন্ত্রী ও কুমিল্লা- ৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানাল স্পিকার, সরকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, একাধিক মন্ত্রনালয়ের সাবেক সফল সচিব, দেবীদ্বারের প্রথম সিএসপি অফিসার বর্তমান কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম গোলাম মোস্তফা, গঙ্গা প্রসাধনী ও শক্তি ঔষধালয়ের স্বত্বাধীকার মরহুম গোলাম ইউনুছ ও সাবেক ডি,আই,জি গোলাম মোরশেদের ভাগ্নে।
তার দাম্পত্য সঙ্গিনী রাকিবা বানু একজন গৃহিনী। পারিবারিক জীবনে তিনি ২ পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ি রকি ফখরুল, দ্বিতীয় পুত্র কুমিল্লা -৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

ছাত্র রাজনীতি ঃ ১৯৬৫-১৯৭০ইং পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এসময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে,- ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এস,এম হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (১৯৬৫-১৯৬৬ইং শিক্ষাবর্ষে) সমাজকল্যান সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে (১৯৬৭-১৯৬৮ইং এবং ১৯৬৮-১৯৬৯ইং অর্থ বছরে) সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠির দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সারা দেশে যখন উত্তাল আন্দোলন চলছিল, সেই উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানের সময় মুসলিম লীগের অঙ্গসংগঠন এন, এস, এফ’র নেতা ছিলেন,- এ, এফ এম, ফখরুল ইসলাম মূন্সী। তখন তিনি মুসলিম লীগের অঙ্গসংগঠন এন, এস, এফ থেকে একাংশ নিয়ে বেড়িয়ে এসে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’র ১১ দফার সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেন এবং ৩ ফেব্রুয়ারী রেইসকোর্স ময়দানে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’র ছাত্র-গণ জমায়েতে তোফায়েল আহমেদসহ ১০জন জাতীয় ছাত্র নেতার একজন হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

রাজনৈকি জীবন ঃ
১৯৮০-১৯৮১ইং সালে দেবীদ্বার সুজাত আলী কলেজ’র নাম পরিবর্তন ও অধ্যক্ষ মিহির কুমার দত্তকে উক্ত কলেজ-এ রাখা-না রাখার আন্দোলন চলছিল। ওই সময় কলেজ প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের পালাটোনা মুক্তিযুদ্ধ প্রশিক্ষন ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্যাম্প প্রধান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসী বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার, সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম খান সহ এলাকার একটি প্রভাবশালী গ্রুপ মেতে উঠেন। তখন নেতৃত্বের সন্ধানে এক পক্ষ সচিব এ,বি,এম গোলাম মোস্তফার সহযোগীতা চাইলেন, তখন এ দায়িত্বভার গ্রহনে উনি ওনার ভাগ্নে বাচ্চু মূন্সীর নাম প্রস্তাব করেন। তখন থেকেই বাচ্চু মূন্সীর আগমন ঘটে দেবীদ্বারে। সেদিনের সেই তরুন যুবক বাচ্চু মূন্সীই আজকের এ,এফ,এম ফখরুল ইসলাম মূন্সী। যিনি বিগত ৪০ বছর ধরে টানা দেবীদ্বারের মাটি ও মানুষের মাঝে নিজের শ্রম, মেধা, সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ওই সময় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারীর মধ্য দিয়ে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসেন। এ,এফ,এম ফখরুল ইসলাম মূন্সীও সামরিক বাহিনীর প্রধান ল্যাঃ জেঃ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ’র নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টিতে যুক্ত হন।

জাতীয় পার্টির হয়ে ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। একই সময় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পরিষদ’র চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচিত হন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ ইং সনে দুই মেয়াদে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা- ৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।

কর্মদক্ষতায় তিনি ১৯৮৬ সালে এরশাদ’র জাতীয় পার্টির সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। নৌ-পরিবহন ও আইডবিলউটি মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী ও ১৯৮৭-১৯৮৮ই সনে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ- উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৭ ইং সনে চীনের সাথে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রেরিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৮ইং সনে তিনি বাংলাদেশের প্রাক্কলন কমিটির- প্রাক্কলন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময়ে তিনি ‘কাজ ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন তৈরী করেন। কিছু দিন কাজ ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনার পর,- ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন, ওই নির্বাচনে তিনি ২১ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর ১৯৯৬ সালে উক্ত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ষ্ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে অর্থাৎ ৫৮,৮৭৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এর আগে এ আসনে আ’লীগের ৫ হাজার ভোট থাকলেও এ,এফ,এম ফখরুল ইসলাম মূন্সী তার কর্মদক্ষতায় ভোটের ব্যবধান বাড়িয়ে প্রায় ষাট হাজারের কাছাকাছি উন্নীত করেন। ২০০১ সালেও আ’লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন। ২০০৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি তিন দফা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি এ সময়ে কুমিল্লার দুঃখ খ্যাত গোমতী নদীর রক্ষা ভেরী বাঁধ নির্মানে ভূমিকা রাখেন, দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারী কলেজকে জাতীয় করণ করা, দেবীদ্বার পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা, দেবীদ্বার রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরন করাসহ অনেক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি টিভি টকশুতে আলোচনায় ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন।
শিক্ষা জীবন ঃ তার পিতার বদলীজনিত কর্মজীবনে চাঁদপুর জেলা সদর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস,এস, সি এবং কৃতিত্বের সাথে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ থেকে ‘আয়ুর্বেদিক মেডিকেল সায়েন্স ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

কর্ম জীবন ঃ কর্ম জীবনে তিনি নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এগুলোর মধ্যে সাবেক সভাপতি, ঢাকা ক্যাপিটাল লায়ন্স ক্লাব, ১৯৮০-১৯৮১। সাবেক চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ জেলার ক্রিয়াকলাপ কমিটি- ৩১৫ (বাংলাদেশ), ১৯৮২। সাবেক সদস্য বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই)।  সাবেক নির্বাহী সদস্য- ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ১৯৮১-১৯৮৪ইং এবং ১৯৮৫-১৯৮৮ইং।

সক্রিয়ভাবে নিম্নলিখিত বেসরকারী সংস্থাগুলির সাথে সম্পর্কিত: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসিং অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)’র সভাপতি। আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী এবং ভেষজ মেডেসিন সম্পর্কীত এফবিসিসিআই’র স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান। হার্টেক্স ফাউন্ডেশন’র পরিচালনা কমিটির পরিচালক।  মেডিসিন প্লান্টস এবং ভেষজ পণ্য ব্যবসায় প্রচার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (এমপিএইচপিবিপিসি) যেখানে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ব্যবসায় প্রচার কাউন্সিল (বিপিসি)’র দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ম্যানুফ্যাকচারাস আ্যসোসিয়েশন (বম্মা)’র সভাপতি। নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ(এনএমএসি)’র প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ মৌমাছি সংরক্ষন সমিতি (বিবিকেএ)’র আহবায়ক। কৃষি পরিচর্যা বাংলাদেশ: এগ্রোকেয়ার বাংলাদেশ (এসিবি)’র চেয়ারম্যান। ইউএস এইড দ্বারা স্পনসরিত; কৃষি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ (এডিওবি)’র রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশ আয়ুর্বেদ পরিষদ’র প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় পরিচালনা কমিটি, এটিডিপি-২ (কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধিনে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরিচালনা, কৃষিখাত সম্পর্কীত একটি ইউএস এইড অর্থায়িত প্রকল্প)’র সদস্য। আয়ুর্বেদিয়া ফার্মাসী (ধপাকা) লিমিটেড’র নির্বাহী চেয়ারম্যান। দেবীদ্বার থানা কল্যাণ সমিতি’র প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যবসা কাউন্সিল (বএিসি/ এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি)’র আহবায়ক। বাংলাদেশ মৌমাছি রক্ষক কল্যাণ সমিতি (বিকেডাব্লএস)’র উপদেষ্টা।

অন্যান্য সংস্থা ও সংগঠন ঃ সদস্য ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, সদস্য গোলশান ক্লাব লিমিটেড, সদস্য কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাব লিমিটেড, সদস্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সদস্য নজরুল একাডেমী, আজীবন সদস্য বাংলাদেশ ডায়াবেটিক্স সোসাইটি।

একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ঃ এ প্রবীন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রী লাভ করার পর ব্যবসায়ে মনোযোগী হন। পুরান ঢাকার আর্মানীটোলা আয়োর্বেদীয় প্রতিষ্ঠান ‘এ,পি’ কোং লিঃ’র স্বত্বাধীকার এবং রাফকাত গার্মেন্টস, রাফকাত ট্রাভলসসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। ব্যাবসা ও রাজনৈতিক কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিদর্শন, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাতে সুনাম সুখ্যাতী অর্জন করেন। তিনি কুমিল্লা- ৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার বর্তমান সহ পর-পর দু’বারে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল’র গর্বিত পিতা।

রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর ঃ এ, এফ এম, ফখরুল ইসলাম মূন্সী বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করেছেন। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিন, হংকং, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তাজ্য, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স এবং প্রাক্তন ইউএসএসআর। এসব দেশগুলোতে বানিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, বস্ত্র, খাবার সম্পর্কিত অসংখ্য সেমিনার এবং মেলায় অংশ নিয়েছেন।

তার একটি সহজ গুণ ছিল, মানুষকে আপন করে নেয়া। এগুনটি সচরাচর অনেক মানুষের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। অর্থনৈতিক ভাবনা ছিল তার মননে মগজে। চলা ফেরা কথা-বার্তা, কর্মে, উপদেশে, চিন্তা চেতনার গভীরতা ছিল নিখুত। এখন তিনি অসুস্থ্যতার কারনে স্মৃতিশক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন।

জীবনের শেষ সময়টাতে এসে তিনি দেবীদ্বারের শিক্ষার উন্নয়নে নিজেকে আত্মনিবেশী হন। তিনি বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ’র সংস্কার, শিক্ষকদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করেছেন, তাদের নিয়মিত বেতন বাতাদি পেতে সহযোগীতা করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মূখী করতে মা’ সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ সহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা, শ্রেণী কক্ষও ভবন সংস্কারের ব্যবস্থা করা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভরে বেকারত্ব অবসানে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করা, ধনাঢ্যদের কাছ থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ সংগ্রহে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, খেলার মাঠের সংস্কার করাসহ নানামূখী কার্যক্রমের উন্নয়ন করেছেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাদাবাজী, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছেন। করোনাকালে এসব কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং তিনি নিজেও অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।

তার প্রকাশনা এবং সম্পাদনায় ১৯৯০-১৯৯১সালে জাতীয় সাপ্তাহিক দেবীদ্বার পত্রিকা আত্মপ্রকাশ ঘটে। পত্রিকাটি প্রকাশনার পর প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদ কর্মী তৈরীর মাধ্যমে দেবীদ্বারের নানা ঘটনা, উচ্ছাস অগ্রগতি, সমস্যা-সংকট, মানুষের জীবন যাত্রা, কৃষি, রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি সহ নানা বিষয় তুলে ধরার এক অনন্য ভূমিকা পালন করে।

এক সময় তার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দেবীদ্বার উপজেলার ২১২টি গ্রামের শত শত বেকার যুবকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেন। অসংখ্য পরিবারের সদস্যদের ঢাকামূখী করে জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে এক অভূতপূর্ব অবদান রক্ষায় ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাই নয়, দেবীদ্বার সদর এলাকার অসংখ্য বেকার যুবককে নানা ভাবে আর্থিক স্বাবলম্বী করায় আজকের দেবীদ্বারে অধিকাংশ পরিবার প্রতিষ্ঠা লাভের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিস্তিৃতি ঘটে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে