কালকিনিতে বোমা বিস্ফরন’ চারটি বসতবাড়ি ভাংচুর ॥ আওয়ামী লীগ নেতাসহ আহত-১০” গ্রফতার -১

0
রাকিব হাসান, মাদারীপুর। নৌকার পক্ষে কাজ করায় মাদারীপুরের কালকিনিতে আওয়ামী লীগ নেতার বসতঘরসহ ৪টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষ। এসময় তাদের বাঁধা দিলে আওয়ামী লীগ নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদেরকে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বোমা বিস্ফরন ঘটিয়ে এ হামলা চালানো হয়। এ হামলার ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ান করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর কর্মী সমর্থকেরা এ হামলা চালিয়েছে বলে ভূক্তভোগী পরিবার জানান।
ভুক্তভোগী, সরেজমিন ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, পৌর এলাকার চরঠেঙ্গামাড়া গ্রামের আলী হোসেন ঘরামীর ছেলে ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম পৌর নির্বাচনে নৌকার মনোনীত আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস.এম হানিফের পক্ষে নির্বাচনের শুরু থেকে এলাকায় কাজ করে আসছেন।
তাকে এলাকায় নৌকার পক্ষে কাজ না করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর পক্ষে কাজ করার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করেন মিঠু ও তার কর্মী সমর্থকেরা। এ বাঁধাকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম নৌকার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর জের ধরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুর সমর্থক আলামিন সরদারের নেতৃত্বে বেশ কিছু বোমা বিস্ফরন ঘটিয়ে আলাই সিকদার, জাবেদ, হৃদয়, আলামীন, রাজিব, নাজমুল, সাব্বির, সানু, আসিফ, উজ্জল, লুতু ও জিয়া সরদারসহ তাদের দলবল নিয়ে দেশী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম, রিপন ঘরামী, রাজিব ও সজিব ঘরামীসহ চারটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটনায়। এসময় তাদের বাঁধা দিলে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম-(৫০), রুবিনা বেগম-(৭০), মুনমুন-(২০), বিউটি-(৩৫), রিনা বেগম-(৪০), মায়া বেগম-(৫০), সাম্মী, জিসান ও সাহেদা বেগম-(৪৫)সহ কমপক্ষে ১০জন আহত হন। আহতদেরকে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ হামলার ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৭জনকে আসামী করে কালকিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আসামী কেরামত সিকদারকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ান করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্তনা দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এস.এম হানিফ।
ভূক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমি নৌকার পক্ষে কাজ করি বলে আমার ও আমার পরিবারের বসত ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে আমার বড় দুঃখ আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যানারও হামলাকারীরা ভাংচুর করে। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করি।
এ বিষয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সোহের রানা মিঠুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায় নি।
আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এসএম হানিফ বলেন, কালকিনির কেউ বলতে পারবেনা আমি কোন দিন ব্যক্তিগতভাবে কারো সাথে মারামারি করেছি। যতটুকু সম্ভব মানুষের উপকার করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজকে আমি নির্বাচনে দাড়িয়েছি তাই আমার শত্রুর অভাব নেই। বিনা কারনে আমার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করছে মিঠুর লোকজন। আমি এটার সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি তদন্ত মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এবং একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে