রাণীশংকৈল ডাকঘরের কার্যক্রম চলে জরাজীর্ণ ভবনে

0

আনোয়ার হোসেন আকাশ.
রাণীশংকৈল( ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:-

সীমানা প্রাচীর ভাঙা, প্রধান ফটকে নড়বড়ে গেট, অফিসের সাইনবোর্ডে মিশে গেছে “ডাক অফিস লেখা” ভবনের ছাদ ভেদ করে অফিসের ভেতরের কক্ষে বৃষ্টির পানি পড়ে চুয়ে চুয়ে, এতে নষ্ট হয় প্রয়োজনীয় চিঠি পত্র। দুর থেকে দেখে মনে হবে এটি একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি। অজানা মানুষের চেনার বালায় নেই এটা ডাক অফিস। এমনি পুরনো ও জরার্জীণ ১তলা ভবনেই চলে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা ডাক অফিসের কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের ঠিক বিপরীত দিকে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক ঘেঁষা উপজেলার প্রধান ডাকঘর অফিসটি। মহাসড়ক ঘেষেঁ রয়েছে সীমানা প্রাচীর সেটিও ভেঙে তছনছ। তার সামনে আবার গেজে উঠেছে জঙ্গল প্রকৃতির ঝোপঝাড়, প্রধান ফটকের গেট নড়বড়ে ,প্রধান ফটকের এবং ডাক ভবনের মাঝের ডান সাইডের ফাঁকা স্থানটিতে পড়ে রয়েছে অনেক পঁচা ময়লা আর্বজনার স্তুুপ ।

জানা গেছে, পাশ্ববর্তী পৌর মার্কেট সহ আশপাশের অনেক ব্যবসায়ী এ ময়লা আর্বজনাগুলো এখানে ফেলে স্তুপ করেছে। ঐ জায়গাটি আবার অঘোষিত প্রসাব খানাও বটে। প্রতিবেদকের সামনেই অফিস চলাকালীন সময়ে প্রধান ফটক দিয়ে এসে অফিসের ডান সাইডের ঐ জায়গা খোলামেলাভাবে হর-হামেশায় প্রসাব সেরে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভবনের ভিতরের কক্ষগুলো অবস্থা আরো নাজেহাল। কক্ষের ফ্লোর গুলোর প্লাষ্টার উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের, ওয়ালের অবস্থা আরো নাজুক, ছাদের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্টের ঢালায় উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে।

কক্ষগুলোর দরজা জানালা অনেক পুরনো হওয়ায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক ওয়ারিং একেবারে নাজুক যা বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে বৈদ্যুতিক কাজ চলছে। বৃষ্টি হলেই ভবনের ছাদ চুয়ে চুয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ২টি কক্ষে। এতে প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র সংরক্ষণে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এ ডাক বিভাগের।

এ নিয়ে কথা হয় রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তাজুল ইসলামে সাথে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অফিসটির এমন নাজেহাল অবস্থা দেখছি। সময়ের ব্যবধানে ডিজিটাল এ যুগে অনেক দপ্তরের অবকাঠামো পরিবর্তন হলেও। সরকারি এই গুরত্বপূর্ণ অফিসটি এখনো পরিবর্তন হয়নি। এটি দুঃখজনক।

উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৮৪ সালে এক বিঘা জমি নিয়ে নির্মাণ হয় এ উপজেলা ডাকঘর অফিসটি। সেই থেকে অফিসটি একবারো সংস্কার হয়নি। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও এখনো নতুন করে ভবন নির্মাণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এখানেই অফিস করতে হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, বিদ্যুতের ওয়ারিং এর তারগুলো যখন তখন ছুটে পড়ে যায়। বৈদ্যুতিক পাখাগুলো ছুটে পড়ে যায়, স্থানীয় মিস্ত্রি দিয়ে কোন রকম লাগিয়ে কাজ করছি। তাছাড়াও ভবনের ষ্টোর রুম ২টির ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেদ করে বৃষ্টির পানি পড়ে। এতে প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র সংরক্ষণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছি আমরা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে জীবন শঙ্কায় অফিস করছি। জানি না কখন কি দ‚র্ঘটনা ঘটে। সরকারী চাকরী করি তাই বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আযম মুন্না বলেন, জরার্জীণ এই ডাক ভবনটি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে