মনোহরগঞ্জের বিপুলাসারে দখলদারের রোষানলে হতদরিদ্র পরিবার

0

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ভূমি দখলদারের রোষানলে পড়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে অসহায় এক পরিবার। পৈত্রিক সম্পত্তি অন্যের দখলে থাকায় মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার গ্রামের মুরাদ বাড়ির মৃত দেলু মিয়ার ছেলে মৃত সামছুল হকের স্ত্রী-সন্তানরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুদান ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের জীবিকা মিলে। মাত্র ২ শতক জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে তাদের বসবাস। দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সামাজিক ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলে দখলদার জহিরুল ইসলাম তা এড়িয়ে গিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাদেরকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার গ্রামের মুরাদ বাড়ির মৃত দেলু মিয়া মৃত্যুকালে উত্তরাধিকারী হিসেবে ৩ ছেলে রেখে যান। তারা হলেন আব্দুল বারিক, আব্দুল কাদের ও সামছুল হক। দেলু মিয়ার ৩ ছেলে পৈত্রিক সম্পত্তির এক দাগে ২৪ শতক জায়গার মালিক হন। তার মধ্যে আব্দুল কাদের ও আব্দুল বারিক তাদের প্রাপ্যাংশের ১৬ শতক জায়গা একই গ্রামের মৃত আবুল বাশার পাটোয়ারীর কাছে বিক্রি করে যান। খতিয়ান সূত্রে বাকি ৮ শতকের মালিক হন সামছুল হক।

অপরদিকে আবুল বাশারের মৃত্যুর পর তার ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিক হন তার ছেলেরা। তার মধ্যে আবুল বাশারের ছেলে জহিরুল ইসলাম তার পিতার ক্রয়কৃত ১৬ শতক জায়গার সাথে সামছুল হকের ৮শতকও দখল করে নেন। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি আধিপত্য বিস্তার করে এই জায়গা ভোগ করে আসছেন। এর মধ্যে গত ২ বছর পূর্বে সামছুল হক মৃত্যুবরণ করেন। দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি আমরণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

সামছুল হকের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তার স্ত্রী-সন্তানরা এই জায়গার মালিক হন। জহিরুল ইসলামের অর্থ-বিত্ত ও আধিপত্যের কাছে তারা নিতান্তই অসহায়। এ বিষয়ে সমাজপতিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়ে দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। সামাজিক ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে দখলদার জহিরুল ইসলাম তা এড়িয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাদেরকে হয়রানি করেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ মিথ্যা নারী নির্যাতনের ঘটনা সাজিয়ে মৃত সামছুল হকের ছেলে বাছিরসহ আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মনোহরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দখলদার জহিরুল ইসলাম। প্রতিপক্ষকে পরাস্থ করতে তিনি মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে বিপুলাসার আউয়ালনগর নামক স্থানে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এতে দল-মত নির্বিশেষে গ্রামের নবীন-প্রবীণ ৫ শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য শাহ আলম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন, বিপুলাসার গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবু তাহের, আব্দুর রশিদ, বেলাল হোসেন, নুরুল আমিন, দুলাল মিয়া, অহিদুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মৃত আবুল বাশার পাটোয়ারীর ছেলে জহিরুল ইসলাম অন্যায় ভাবে মৃত সামছুল হকের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করে আসছে। আমরা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। সর্বশেষ বছর খানেক আগে স্থায়ী মীমাংসার লক্ষ্যে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ সমঝোতায় আসে। দখলকৃত জায়গার মূল্য ১৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তা ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রদান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন জহিরুল ইসলাম। যা একটি স্ট্যাম্পে লিপিবদ্ধ করে ৫’শ টাকা বায়না করা হয়। পরবর্তীতে জহিরুল ইসলাম তা অমান্য করে ভুক্তভোগী পরিবারকে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন।

শুধু এ পরিবারটিই নয়; হাজী আব্দুল কাদের, আব্দুর রব, এবায়েদ উল্লাহ ও শাহ আলমসহ গ্রামের আরো একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পত্তি অবৈধ ভাবে ভোগ করছেন দখলদার জহিরুল ইসলাম। প্রতিপক্ষকে পরাস্থ করতে তিনি মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিপুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা সামাজিক ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। জহিরুল ইসলাম সামাজিক সালিশ-দরবারকে অমান্য করে উল্টো এই নিরীহ পরিবারটিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। সর্বশেষ তিনি নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অথচ আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সাধারণ বাসিন্দাদের কাছে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে