আইনশৃঙ্খলার অবনতি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

0

রাকিব হাসান, মাদারীপুর। মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার উত্তর বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি,ধর্ষণ, লুট ও সংঘর্ষ নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৩বছর থেকে ইউনিয়নে একটি খুনের ঘটনা ছাড়াও এক বছরে বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে।

এ অবস্থায় ইউনিয়নবাসীর দিন কাটছে আতঙ্কে।
উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে উত্তর বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের অবস্থান। এ ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। তবে ইউনিয়নটির বড় অংশ চরাঞ্চল। ১৫ বছরে এ ইউনিয়নের অনেক অংশ নদীর পানিতে বিলীন হওয়ায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন।

এলাকার অনেকে জানান, ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ ইউনিয়নে একটি খুন হয়েছেন। কিন্তু জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধে এমদাদ খা গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারকে (৪৮) মৃত্যুর হুমকি দিয়ে চলছে । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১সালে রাস্তা দিয়ে হেটে বাড়ি যাওয়ার পথে দোকানের পাশে এমদাদ খা আঃ রাজ্জাক হাওলাদারকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে। এবং তার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাদা দাবি করে।

এবং এমদাদ খা বলে আমি তোরে জীবনের তরে একেবারে শেষ করে দিবো। এই সেই আলোচিত এমদাদ খা ওরপে এক চোখ কানা একদিন রাতে চুরি করে আসার পথে চুরি করার বিষয় বেদেরমেয়ে দেখে ফেলে তখন তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে। তাদেরকে ভয় দেখিয়ে আদালতে হাজির হতে দেইনি এই এমদাদ তারপর পরে কয়েকমাস জেল খেটে বের।এবং সাধারণত মানুষদের বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে চাদা দাবি করে আর তারা চাঁদা না দিলে রাস্তায় একা পেয়ে মারধর করে। এক চোখ কানা এমদাদের ভয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এছাড়াও এমদাদ এক এক এলাকায় করে হাজারো মামলার আসামি হয়ে ঘুরতেছে।তার বিরুদ্ধে অধিকাংশ থানায় মামলা রয়েছে। এবং এমদাদ খা বলে টাকা থাকলে মামলায় কি করে।থানাতো আমার মামা বাড়ি আমি যাই আর আছি। এটা কোন বিষয় না। টাকা দিয়ে পুলিশ প্রশাসন পকেটে রাখা যায়।

এলাকাবাসীরা বলে,এতো মামলা থাকায় পুলিশ কেন এমদাদ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।আজ যদি পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত সঠিক ব্যবস্থা নিতো তাহলে আমরাা এলাকাবাসী এই সন্ত্রাস এমদাতের হাত থেকে অন্তত আমরা একটুও বাঁচতে পারতাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর বাঁশগাড়ি গ্রামের এক বৃদ্ধ জানান, ডাকাতি বন্ধের দাবি জানানোর জন্য যখন এলাকার লোকজন থানায় অভিযোগ করতে যাবে তখন এমদাদ তাদের পরিবার ও ছেলে মেয়েকে মারার হুমকি দেয় এবং বলে তোর মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলব।তার ভয়ে এলাকার কোন লোক মুখ খুলে কথা বলতে পারেনা। তারপরও কারও মন থেকে ডাকাত এমদাতের আতঙ্ক কাটছে না।এবং একজন অবসর প্রাপ্ত নৌবাহিনীর সদস্য এমদাদ খার হাত থেকে বাঁচতে পারেনি।এ যদি হয় আইনী ব্যবস্হা তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে করবে বসাবস।এলাকাবাসী মুক্তি চায় এই সন্ত্রাসী এমদাদের হাত থেকে। জাকির হাওলাদারের স্ত্রী জাকিয়া বলে,আমার স্বামী ঢাকায় থাকে।আমি আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে একা বাড়ি থাকি আর সেই সুবাসে এমদাদ খা আমাকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়।তার ভয়ে এখন এলাকায় থাকা বড় কঠিন। আর এক

কিন্তু ভুক্তভোগী আঃ রাজ্জাক হাওলাদার বলে,আমি এমদাদ খাকে চাদা দিতে অস্বীকার করি। এবং তার মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই জন্য সন্ত্রাসী এমদাদ খার মাদক ও ইয়াবা ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপে কিছুটা ভাটা পরে।

সন্ত্রাসী এমদাদ খার যতো ক্ষোভ সবই ছিল আমার ওপর। আর সেই কারণে আমি সন্ত্রাসী এমদাদ খার নগ্ন হামলার স্বীকার হলাম।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে

এরকম নগ্ন হামলার স্বীকার হয়েছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী ও সমাজের শান্তি প্রিয় মানুষ।

অত্র এলাকার আরেক হতভাগ্য কৃষক আলাউদ্দিন আকন জানান , আমার ভাগনি শাহনাজ পারভীন কেয়ার পৈত্রিক সম্পত্তি দেখাশোনা করতাম। কারণ ওরা সবাই ঢাকায় বসবাস করে। বাড়িতে কোনো ঘরবাড়ি নেই, শুধু খালি জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও কাঠ গাছ আছে। এগুলো দেখাশোনা করতাম।

কিন্তু আমি দেখাশোনা করার কারণে সন্ত্রাসী এমদাদসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভাগনির পৈত্রিক বসতভিটা দখল করতে না পেরে ও ঐ পরিত্যক্ত জায়গায় বসে মাদক সেবন ও কেনাবেচায় সমস্যা হওয়ার কারণে আমাকে দিনেদুপুরে দেশীয় অস্ত্র (সাবল) দিয়ে পিটিয়ে আমার দু’টি পা ভেঙ্গে দেয়, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এখন বাড়িতে আছি। আমি চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছি। সন্ত্রাসী এমদাদসহ তার সাঙ্গপাঙ্গের বিরুদ্ধে। আবার পরবর্তিতে এ বিষয়ে সন্ত্রাসী এমদাদ খাকে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্জাক হাওলাদারের ছোট ভাই আঃ মান্নান হাওলাদার বাদী হয়ে চার জনের মামলা করেন তারা হলেন,১.এমদাদ খা (৪৮)পিতা মৃত্যু ডেঙ্গর খা,২.টুটুল খা(২২),পিতা এমদাদ খা, ৩.এবাদুল সরদার(৩০),পিতা মজিবুর রহমান খা,৪.রাজন খা(২৪),পিতা এমদাদ খা। আর ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত নামায় আসামি করে কালকিনি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কালকিনির থানার ওসি মো.নাসির উদ্দীন মৃধা বলেন, মামলা হয়েছে আসামী একজনকে ধরা হয়েছে আর বাকি আসামিদের ধরার প্রক্ষিয়া চলতেছে।

এছাড়াও মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহাবুব হাসান বলেন,অন্তত প্রকট এলাকা বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আমরা অভিযান পরিচালনা করে বাকি আসামিদের ধরে আইনগত ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া দিন নেব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে