কিশোরগঞ্জের শামসুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা জালিয়াতির নিয়োগে পদ দখলের অভিযোগ সুপারে বিরুদ্ধে

0

নীলফামারী ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার শামসুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে সুপার মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে। তিনি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির মাধ্যমে স্বীকৃতি না থাকা প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতির ভুয়া কাগজ তৈরী করে ওই পদে নিয়োগ নেন। এরপর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেন তিনি। বুধবার দুপুরে ওই মাদ্রাসা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি নবীবুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন,‘সুপার মো. আব্দুল মতিন ২০১৯ সালের ২ মার্চ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ওই সালের ১৩ মার্চ যোগদান করেন প্রতিষ্ঠানে। সে সময়ে কমিটির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন তাকে নিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু ওই কমিটির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

তিনি বলেন,‘প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতির মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর তার নিয়োগকালীন সময় পর্যন্ত স্বীকৃতি নবায়ন করা হয়নি। বিধিমোতাবেক স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হলে কোন নিয়োগ বৈধ হবে না। বিষয়টি তিনি জানতেন, এজন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়নের ভুয়া কাগজ তৈরী করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে নিয়োগ নেন। এরপর ওই ভুয়া কাগজ আড়াল করতে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট সাত বছরের নবায়নের আবেদন করেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে। ২০২০ সালের ২০ আগস্টের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ওই সাত বছরের স্বীকৃতি নবায় আদেশ ওই সালের ৬ সেপ্টেম্বর জারী করেন। অথচ তার নিয়োগ হয়েছে ২০১৯ সালের ২ মার্চ।’

সুপার মো. আব্দুল মতিনের নিয়োগ অবৈধ দাবি করে তিনি বলেন,‘ওই পদটি প্রাথর্ী ছিলেন মোট ছয় জন। এর মধ্যে তিনজন প্রাথর্ীর আবেদন পত্রে নানা ভুলভ্রান্তি থাকলেও সেসব আবেদন বাতিল না করে সকলকে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ দেন নিয়োগ কমিটি। ওই ছয় প্রাথর্ীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অযোগ্য তিন প্রাথর্ীসহ মোট পঁাচজন অংশ নেন। নিয়োগ বিধিতে অন্তত তিন জন যোগ্য প্রাথর্ীর অংশগ্রহনের নিয়ম রয়েছে। সে মোতাবেক যোগ্যদের মধ্যে ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুই জন। নিয়ম বর্হিভুত এমন নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি নানা অর্থনৈতিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার কর্মকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় থেকে এক লাখ ৬৪ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি একাধিকবার তার কাছে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অনিয়ম, দূনর্ীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সুপার মো. আব্দুল মতিনকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী সাময়িক বরখাস্ত করেছে বর্তমান কমিটি। এরপরও তিনি অবৈধ্য প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটিতে।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সুপার (সহ-সুপার) এবিএম আজাহারুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আসাদুল হক, সুজা মিয়া, সমাজ সেবক আফছার আলী।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আবুল মতিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ওই সময়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. মাহতাব উদ্দিন। তিনি বর্তমান কমিটিতেও রয়েছেন একই দায়িত্বে। এবিষয়ে বলেন,‘আমাকে ভুল বুঝিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন মো. আব্দুল মতিন। এরপর আমি কাগজপত্র ঘেটে তার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। ফলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

জেলা শিক্ষাকর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,‘ওই প্রতিষ্ঠানের সুপার এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ আছে বলে জেনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খেঁাজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে