মিরপুরে পুলিশ প্রহরায় আড্ডু বাহিনীর বাড়ী দখলের চেষ্টা

0

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃঃ
ঢাকার মিরপুরে পুলিশের সামনেই বাড়ী ভাংচুরসহ দখলের মহা উৎসব। এ দখলকাজে পুলিশসহ তিন শ্রেনীর গ্যাং বাহিনী কাজ করছে। বাহিনী গুলো হলো, কিশোর গ্যাং, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী এবং কথিত এফএনএফ গ্রুপ সংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনী।

এ সকল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা অসহায় নিরীহ গরিব বসবাসকারী পরিবারকে উচ্ছেদ করে বাড়ীটি কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এসময় বাড়ী ভাংচুরসহ একটি কারখানার মালামাল লুটপাট করে নেয় তারা।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ লিখে বৃহস্পতিবার থানায় জমা দিলেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেনি পল্লবী পুলিশ। জানা গেছে ভুক্তভোগীরা বাড়ী কারখানা রক্ষার্থে উপায়ন্তর না পেয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নে কল করে আইনী সহয়তা চাইলে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলেও ভুক্তভোগীদের কোন প্রকার আইনি সহায়তা না করে সন্ত্রাসীদের কাছে মাথানত করে কানে মুখে কথা বলে তারা চলে যান।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবী থানাধীন এলাকার সেকশন-১১, এভিনিউ-৫, লাইন -১৭ বাসা- ৩৩১ নম্বরের বাড়ীটির একতলা ভবন বহু পুরনো। উক্ত বাড়ীটির সামনে এক থেকে দেড় হাজার লোকের হৈহল্লা। কয়েজন সন্ত্রাসী বাড়ীর সাদে উঠে হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ী ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত। অনেকেই উক্তবাড়ীর কারখানা মালামাল লুটপাট করছে। তারা সবাই বাড়ী দখল করতে এসেছে। বাড়ী দখলে এফএনএফ গ্রুপের সদস্যেদের পাশাপাশি আলোচিত কিশোর গ্যাংয়ের লিডার ছাত্রলীগের নেতা জয় বাহিনী “সন্ত্রাসী সুমন বাহিনীরাও অংশ নেয়। তারা দখল কাজে কঠোর ভুমিকা পালন করেন। তথ্য সংগ্রহের কাজে গনমাধ্যম কর্মীদেরও বাঁধা প্রধান করেন তারা। গন্যমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে আনাসে সটকে পরেন পুলিশ সদস্যরা। এফএনএফ গ্রুপ সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী আড্ডু নিজেও সেখানে উপস্থিত হয়ে বাড়ী ভাঙ্গার নেতৃত্বদেন। ঘটনা স্থলে দেখা যায় এফএনএফ গ্রুপ সংগঠনের নাম ও লোগো টিশার্ট পড়া এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে বাড়ী ভাঙ্গার তদারকি করছে। জানা যায় তিনিই যুবলীগের পদপদবী ছাড়া অন্যতম নেতা বিহারী আড্ডু।
এ ব্যাপারে বাড়ী দখল ও ভাঙ্গার বিষয়ে আড্ডুর কাছে জানতে চাইলে বলেন এই বাড়ীটি আমার বন্ধু রিপনের। এতদিন ধরে বিএনপির লোকজন দখল করেছিলো। তাই আমরা বাড়ীটি উদ্ধার করতে আসছি। আমরা কোনো অন্যায় কাজ করছিনা। এটা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা অবগত আছে।

এ ব্যাপারে বাড়ীর মালিকের শ্যালক লিয়াকত আলী বলেন, বাড়ীটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। কোর্টে মামলা চলামন রয়েছে। তারা কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে হামালা চালিয়েছে। কারাখানার মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। তিনি আরো বলেন, প্রথমে প্রশাসনের লোকজন যারা এসেছিলো তারা সহযোগিতা করেনি। এবিষয়ে পল্লবী থানায় অভিযোগ করেছি এখনো মামলা হয়নি। থানার প্রশাসন এখন কি করে সেই অপেক্ষায় আছি।
স্থানীরা বলেন দখল ও ভাংচুর কাজে পুলিশেরও মদত ছিল। পুলিশ আসার পরে তাদের সাথে গোপনে কানে মুখে কথা বলে তারা বিদায় নেন। স্থানীয় খলিল বলেন দখলকারীরা কিভাবে প্রকাশ্যে বাড়ীটি দখল করছে। প্রশাসনের লোকজন কিছুই বললোনা। এভাবে যদি তারা দখল করতে থাকে তাহলে আমরা কিভাবে নিরাপ্তায় থাকবো। পরে ডিএমপির এক ঊচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নির্দেশে একজন আসামিকে আটক করে।
অবাঙালি হলেও আড্ডু স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ফ্লিম স্টাইলে হাজার খানেক স্বকীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পুলিশের সামনেই দিনের আলোতে বাড়ী দখলের এমন ঘটনা যেন ৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদারদের কথা আমাদের আরো একবার মনে করে করিয়ে দেয়। মিরপুর পল্লবী যে এখনো পরাধীন সে কথা বিহারী আড্ডু বাহিনীর ভয়ানক দখলবাজী ও ভাংচুর সহ সংঘবদ্ধ বাহিনীর তান্ডব দেখলেই বোঝা যায়। এমন ঘটনার দৃশ্য দেখে হতবাক এলাকাবাসী! শুনে হতবাক হয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরাও।

এ বিষয়ে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন আমি বিচার শালিসের বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে অনেক আগে এক ভদ্রলোক আমার কাছে আসছিলো করোনার পর আর আসেনি। এবং বাড়ীর কাগজ পত্র কি আছে তাও জানিনা। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন এভাবে জোরজুলুম করে অন্যাের বাড়ী দখল করলে আল্লাহ কাউকে মাফ করবেনা।

খোজ খবর নিয়ে জানা যায় বিহারী আড্ডুর যুবলীগের কোনো পদপদবী না থাকলেও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর আস্থাভাজন ও বাম চোখের মণি। ঢাকা ১৬ আসন জু্ড়েই যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবির নিচে আড্ডুর ছবি সংযুক্ত করে ব্যানার, ফেস্টুনে সারা এলাকায় ছেয়ে গেছে। আড্ডুর একক নিয়ন্ত্রণেই ঢাকা-১৬ আসনের সকল অপরাধ কর্মকান্ড চলে নখের ইশারায়। যেমন মাদক ব্যাবসা, জুয়া, দখলবাজী, ফুটপাতের চাঁদাবাজি, জুয়া, অটোরিকশার কার্ড বানিজ্য, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগসহ লাগামহীন অপরাধ কর্মকান্ড। তার রয়েছে নিজেস্ব গ্যাং বাহিনী। এফএনএফ গ্রুপ সংগঠনের নাম করেই সকল অপরাধ চলমান রাখে। কদিন পর পর লোক দেখানো সংগঠনের নামে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা, এমপি, কাউন্সিলরদের অতিথি, বিশেষ অতিথি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রোগ্রাম করে এই সমাজ সেবা নামধারী সংগঠনের একশো একষাট্টি জনের সদস্য রয়েছে। সুত্র বলছে সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্যই জামাত, বিএনপি, যুবদল ছাত্রদলের কিন্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিহারী আড্ডু যুবলীগের পরিচয়ে চলেন।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে আড্ডু সন্ত্রাসী বাহিনী গড়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৬নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর আশ্রয় প্রশ্রয়ে আড্ডু বাহিনী হয়েছেন বেপরোয়া। ফুটপাতের ১০ টাকার চাঁদাবাজি করা সেই আড্ডু এখন শতশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

বাড়ী দখল ও ভাংচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, আমরা ঘটনা স্থল থেকে একজনকে আটক করেছি। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে