কুমিল্লায় চুরি হওয়া শিশু ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধারসহ চোর গ্রেফতার

0

এ আর আহমেদ হোসাইন (কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি)//

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চুরি হওয়া ১৯ মাসের শিশুকে ১৫ ঘন্টা পর জীবিত উদ্ধারসহ চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় উপজেলার বলরামপুর থেকে শিশুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কৃত শিশু রাইসা উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামে তার নানা ফুল মিয়ার বাড়ি থেকে চুরি হয়। রাইসা একই উপজেলার মনাইরকান্দি গ্রামের দুবাই প্রবাসী হালিম মিয়ার কন্যা।

ওই ঘটনায় শিশু রাইসার মা জান্নাতুল আক্তার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত কবির হোসেনের নামে তিতাস থানায় মামলা করলে,মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই বিল্লাল হোসেন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আজ শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃত কবির হোসেনকে কুমিল্লা কোর্টে প্রেরণ করেন। গ্রেফতার কবির উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে জান্নাতুল আক্তার প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হয়ে ফিরে এসে দেখে ঘরের বিছানায় শিশু কন্যা রাইসা নাই,পরক্ষনে জান্নাত ঘরের বাতি জ্বালিয়ে দেখতে পায় ঘরে সিঁধ কাটা। এসময় জান্নাত কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং জানান্নাতের দুইটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় চোরচক্র। বেলা বারার সাথে সাথে চোর চক্র জান্নাতের ছোট ভাই আলমের মোবাইলে চুরি হওয়া নাম্বার দিয়ে ফোন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে এবং বলে বিষয়টি কাঊকে জানালে শিশুটি মেরে ফেলবে।

পরে ঘটনাটি জান্নাত ওতার ভাই আলম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন শৃঙ্খলা বাহীনিকে জানালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ পিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(মুরাদ নগর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান এর নেতৃত্বে তিতাস থানা ওসি সৈয়দ আহসানুল ইসলাম ও কুমিল্লা ডিবি পুলিশের একটি টিম চুরি হওয়া শিশু উদ্ধার অভিযানে নেমে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে ১৫ ঘন্টা পর শিশু রাইসাকে উপজেলার বলারামপুর থেকে জীবিত উদ্ধার করাসহ চোরকে গ্রেফতার করে এবং তাকে তল্লাশি করে চুরি হওয়া ১টি মোবাইল উদ্ধার করে। পরে শিশুটিকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করে।

এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) মীর আবিদুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ পিপিএম বার এর নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তিতাস থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি এবং একজনকে গ্রেফতার করেছি। জরিত বাকীদেরও গেফতার করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে